আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ইসরায়েলি শাসনের সাবেক মেজর জেনারেল এবং তথাকথিত অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক প্রধান জিওরা আইল্যান্ড দেশটির চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলে, “ইরান যুদ্ধে জয়ী হয়েছে, হয়তো কয়েক পয়েন্টের ব্যবধানে, কিন্তু এটি স্পষ্ট বিজয়।”
আইল্যান্ড আরও বলে, “যুদ্ধের ফলাফল এখন পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে এবং ইরানিরা যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে আরও বেশি সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে পারে।”
সে দাবি করে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে “স্পষ্ট সংকটে” রয়েছে এবং এর ফলে ইসরায়েলি শাসন “আরও বড় বিপদের” মধ্যে পড়েছে। আরও জোর দিয়ে বলে, আগ্রাসন সত্ত্বেও ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা অক্ষত রয়েছে। তার মতে, পুরো সংঘাতজুড়ে ইরান শক্ত প্রতিরোধ ও ক্ষমতার প্রদর্শন করেছে এবং এখন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদ্দেশে শক্ত অবস্থান তুলে ধরছে।
আইল্যান্ড বলে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে ভালো পরিস্থিতি হবে হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাওয়া, যাতে ইরানকে অতিরিক্ত ছাড় দিতে না হয় এবং একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া যায়।
আইল্যান্ড উল্লেখ করে, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের সঙ্গে চলমান পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনার এজেন্ডা থেকে পারমাণবিক বিরোধকে সরিয়ে রাখতে বাধ্য হয়েছে এবং এখন মূলত আগ্রাসন বন্ধের বিষয়েই মনোযোগ দিচ্ছে।
অথচ জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যু, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দিত।
আইল্যান্ডের ভাষায়, এতে কার্যত যুক্তরাষ্ট্র আবার “শুরুতে ফিরে গেছে।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৭ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সর্বশেষ এই অপ্ররোচিত আগ্রাসন শুরু করে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৭ এপ্রিল একতরফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। এর আগে ইরান অন্তত ১০০ দফা পাল্টা হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালি শত্রু ও তাদের মিত্রদের জন্য বন্ধ করে দেয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
ইরান জানিয়েছে, তাদের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আলোচনায় ফিরবে না। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সব ধরনের আগ্রাসন বন্ধ করা এবং অবৈধ অবরোধ প্রত্যাহার করা।
Your Comment